স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকার এক নাম্বারে থাকা দেশের শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ী টেকনাফের বাসিন্দা সাইফুল করিম আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে ১৩ লাখ ইয়াবাসহ ২ জনকে আটক করার পর তারা সাইফুল করিম ও মিয়ানমারের চোরাকারবারি আব্দুর রহিমকে জড়িয়ে চট্টগ্রামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এতে ১৮ কোটি টাকা লেনদেনের একটি বিষয়ও উঠে আসে। এছাড়াও ১৯৯৭ সালে দেশের প্রথম ইয়াবার চালানও সাইফুল করিমের মাধ্যমেই দেশে আসে বলেও জানা যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধারের পর থেকেই সাইফুল করিম পলাতক ছিলো। গত ১৬ ফেব্রুয়ারীতে স্থানীয় একটি মাধ্যম ব্যবহার করে ১০২ জন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। সম্প্রতি সেই মাধমটিকে ব্যবহার করেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করে সাইফুল করিম।

এছাড়াও ইয়াবা ব্যবসার আড়ালে রাতারাতি ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে টেকনাফের বাসিন্দা সাইফুল করিম। কক্সবাজার জেলা থেকে সর্বোচ্চ কর দিয়ে সিআইপি মর্যাদাও লাভ করে। এ কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। কক্সবাজারের গডফাদারের তালিকাতেও দুই নম্বরে রয়েছে সাইফুলের নাম।

এবিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, ইয়াবা ব্যবসার মূল হোতাসহ কয়েকজন আত্মসমর্পণ করতে চাচ্ছে বলে খবর পেয়েছি। শর্ত সাপেক্ষে যে কেউ আত্মসমর্পণ করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে আইন নিজের গতিতে চলবে।

এসময় পুলিশ সুপার মাসুদ আরও বলেন, কক্সবাজারের অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক হয়েছেন। অনেকে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। তবে বড় চোরাকারবারিদের দু-একজন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। দেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে তাদের ধরতেই হবে। তারা আত্মসমর্পণ করতে চাইলে আমরা স্বাগত জানাব।

১৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় হালিশহরের অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে কাউন্টার টেররিজমের দায়িত্বে আছেন।

এঘটনায় উপকমিশনার মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন, সাইফুল করিম ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম ইয়াবার চালান এনেছিলো। দেশের লাখ লাখ তরুণ-তরুণীকে মাদকাসক্ত করার পেছনে তার বড় ভূমিকা রয়েছে। ১৩ লাখ ইয়াবা বড়ি একসঙ্গে আটক হওয়ার পরই তার সম্পর্কে আমরা এসব তথ্য পাই।

এছাড়াও উপকমিশনার মোঃ শহীদুল্লাহ আরও বলেন, সাইফুল এবং মিয়ানমারের রহিম ধরা পড়লে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। সাইফুল আমাদেরও ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here