নিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থাৎ ১০৮৯ কোটি ১২ লাখ টাকা উপহার দিলেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্র।

তিনি চাইলে হয়তো অনায়াসে এই অর্থ দিয়ে দিব্যি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা বলে কথা আর সেটি যখন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তখন তাকে যথার্থ মানতেই হবে।

বিনিয়োগ ব্যবসায়ী ডেভিড হার্ডিং তাঁর দাতব্য সংস্থা ডেভিড অ্যান্ড ক্লডিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এই অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের দানশীলতার ইতিহাসে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনো ব্রিটিশ দানবীরের পক্ষে দেওয়া অনুদানের সবচেয়ে বড় অঙ্ক এটি।

উপাচার্য অধ্যাপক স্টিফেন জে টুপ এক প্রতিক্রিয়ায় একে ‘অসাধারণ মহানুভবতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই অনুদান শিক্ষার্থীদের জীবনমানে পরিবর্তন আনবে। এই অর্থ শতাধিক পিএইচডি গবেষক ও সারা দুনিয়ার বহু পিছিয়ে পড়া মেধাবীদের পড়াশোনার কাজে ব্যয় করবে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। কিছু দিন আগে যুক্তরাজ্য ও বিশ্বের নানা দেশের মেধাবীদের পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থসহায়তার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি।

ডেভিড হার্ডিং বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান উইন্টন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও তাঁর স্ত্রী ক্লডিয়া সায়েন্স মিউজিয়াম ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি সদস্য। ক্যামব্রিজের সেইন্ট ক্যাথারিন’স কলেজ থেকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন ৫৭ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী। সেইন্ট ক্যাথারিনস কলেজের পরিচালক অধ্যাপক স্যার মার্ক ওয়েল্লান্ডের মতে, এই বিনিয়োগ গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা অভাবনীয় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

আবাসিক সুবিধাসহ পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে চায় ক্যামব্রিজ। বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৩ শতাংশ বাড়িয়ে ২০১৬-১৭ সেশনে সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর জায়গায় ২০২১ সালের মধ্যে ৭ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীকে পড়াশুনার সুযোগ দিতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

হার্ডিংয়ের আগে বড় অঙ্কের হিসাবে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের বিল গেটসের দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে ২১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (এক হাজার ৭৬১ কোটি ৯০ লাখ টাকা) অনুদান হিসেবে দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here