প্রেম করার ‘অপরাধে’ বাবা রফিকুল ইসলাম নিজেই কলেজপড়ুয়া ছেলে এনামুল হক মানিকের (১৯) পায়ে শেকল বেঁধে ১৯ দিন ঘরবন্দী করে রেখেছিলেন।

ঘটনাটি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের গন্ধর্নপুর গ্রামের। পুলিশ এনামুলে বাবা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে।

জানা গেছে, পীরগঞ্জ শাহ আব্দুর রউফ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এনামুল হক মানিক তাদের পাশের গ্রামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি এনামুলের বাবা রফিকুল ইসলাম মেনে নিতে পারেননি। গত ৫ মার্চ তিনি ছেলেকে ডেকে পায়ে শেকল বেঁধে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এনামুলের খাবার থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ ওই ঘরের ভেতরেই করতে হতো।

১৯ দিন এনামুলকে ঘরবন্দী করে রাখার বিষয়টি আজ রবিবার জানাজানি হয়ে যায়। এলাকাবাসী ঘটনার ব্যাপারে পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে এনামুলকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে।

সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম জানান, এনামুল ও ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক জানার পর তাদের পরিবারে গণ্ডগোল হয়। মেয়েটি তার কাছে এনামুলকে বিয়ে করার দাবি নিয়ে আসে। পরে তিনি গ্রামের কয়েকজন কর্তাব্যক্তি নিয়ে রফিকুল ইসলামের বাড়ি গিয়ে দুজনের বিয়ের জন্য আলোচনা করেন। কিন্তু তিনি রাগান্বিত হয়ে ছেলেকে শেকল বেঁধে ঘরবন্দী করে ফেলেন।

এদিকে এনামুলের বড় ভাইয়ের স্ত্রী লীনা বেগম জানান, পাশের গ্রামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ায় তার দেবরের পায়ে শেকল বেঁধে ঘরবন্দী করে রাখেন শ্বশুর। আজ রোববার পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুরেশ চন্দ্র জানান, গ্রামবাসী ঘটনার ব্যাপারে জানালে তিনি ফোর্স পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনামুলের বাবা ও ভাইকে থানায় আনা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here