মানসম্মত শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি

সম্প্রতি উচ্চমাধ্যামিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। পাসের হার ৬৬.৬১ শতাংশ যা ২০১৭ সালে ছিল ৬৮.৯১ শতাংশ । এবারকার ফলাফলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো: শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি, শতকরা পাসের প্রতিষ্ঠানের হ্রাস, পাসের হারে মেয়েদের উন্নতি, জিপিএ ৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের উন্নতি ইত্যাদি।  পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় পাসের হারই মূখ্য বিষয় নয়— মানসম্মত শিক্ষাই বিবেচ্য বিষয়। আসলেও তাই। এইজন্য এই বছরের উচ্চমাধ্যমিক পাসের ফলাফলের শতকরা হার বিগত এক দশকের মধ্যে সর্ব্বনিম্ন হলেও তা সন্তোষজনক।

মানসম্মত শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি

স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, প্রশ্নঁ ফাস রোদ কল্পে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ায় পাশের হার কমলেও শিক্ষার মান বেড়েছে যা বর্তমান সময়ের দাবি। আবার পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে শিক্ষার মানের বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত অর্থাত্ শিক্ষার মানের উন্নতি হলে পরীক্ষার ফলফলেও উন্নতি হবে। এজন্য আমরা আশা করি, পরবর্তী এইচএসসি পরীক্ষায় এর প্রতিফলন ঘটবে। এখন আসা যাক ফলাফলের পরবর্তী তথা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত্ শিক্ষা জীবন নিয়ে আাালোচনায়।

আমরা জানি, উচ্চ মাধ্যমিক হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ন পর্যায় যার উপর নির্ভর করছে শিক্ষার্থীদের্ উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের গতি-প্রকৃতি। তাই এখন  শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার যুদ্ধ। এবারকার ফলফলে জিডিএ ৫ পাওয়া শিক্ষাথীদের সংখ্যা ত্রিশ হাজার কম বিধায় তাদের অনেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে যাবে। তবে বাকিদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। কেননা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়  মিলে শিক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী দেশে উচ্চ শিক্ষার আসন সংখ্যা ১৩ লাখেরও বেশি। তবে শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে সরকারি খাতের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলি।। এই সুযোগ যারা পাবে তারা কম খরচে উচ্চ মানের শিক্ষার সুযোগ পাবে। এই সরকারি কাঠমোতে যারা বঞ্চিত হবেন তারাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য সুযোগ পাবে যা অনেকটা বা ক্ষেত্র বিশেষে ব্যয়বহুল ।

উপর্যুক্ত পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, এইচএসসির পর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ কণ্টকমুক্ত করতে হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি সেখানকার টিউশন ফি যথাসম্ভব হ্রাস করতে হবে। এটা করা সম্ভব হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের এত হাহাকার থাকবে না। আর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তিপরীক্ষা নেওয়া হলে থাকবে না কোনো হয়রানি ও ভোগান্তি।

 

লেখক:  অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ডিন, সিটি ইউনির্ভাসিটি, ঢাকা  ও জ্যোষ্ঠ সহ-সভাপতি,

সূত্র: ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here