শফিকুল ইসলাম; যার বয়সের হাফ সেঞ্চুরি হয়ে গেছে বছর খানেক আগেই। অন্য অনেকের মতো এই বয়সে সংসার-সন্তান-নাতিনাতনি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি এখন দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা দিচ্ছেন।

শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নাতির বয়সী সহপাঠীদের সঙ্গে বগুড়ার শেরপুরের শালফা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন শফিক। তিনি বলেন, ‘পারিবারে সবাই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে, তাহলে আমি কেন পিছিয়ে থাকবো।’

পেশায় হোমিও চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের চান্দিয়ার গ্রামের মৃত সোনাউল্লাহ শেখের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শফিকুল ইসলামের তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে শেরপুর টাউন ক্লাব মহিলা কলেজে স্নাতক, মেঝো মেয়ে ধুনটের বিশ্বহরিগাছা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ছোট মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে পড়ছেন।

শফিক জানান, তিন মেয়ে ছাড়াও তার পরিবারের বাকি সদস্যরাও লেখাপড়া করছে। এটা দেখেই ফের পড়াশুনা ও পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহ জন্মে তার।

সেই আগ্রহেই একসময় নিজের মনে থাকা সব দ্বিধা ঝেড়ে তিনি শেরপুরের হাপুনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। আর এখন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে শেরপুরের শালফা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ কেন্দ্রে দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা দিচ্ছেন।

শফিকুল ইসলাম জানান, আজকের (শনিবারের) পরীক্ষা মোটামুটি ভালো হয়েছে তার। বাকি পরীক্ষাগুলো ভালো হবে বলেও তিনি বেশ আশাবাদী।

শেরপুরের শালফা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ কেন্দ্রের সচিব অধ্যক্ষ ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে ২১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শফিকুল ইসলাম দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাকে দেখে অনেকে অনুপ্রাণিত হবেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here