প্রায় সাড়ে ৫শ’ বছর ধরে নামাজ আদায় করা হয় দিনাজপুরের চেহেলগাজী মাজার মসজিদে। রমজান মাসে চলবে খতমে তারাবি নামাজ। মূল মসজিদটি ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাশের মসজিদেও একসঙ্গে নামাজ আদায় করা হবে। ইতোমধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছেন মসজিদ কমিটির লোকজন। 

জানা যায়, দিনাজপুর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে অবস্থিত চেহেলগাজী মাজার। মাজারের সঙ্গেই রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫শ’ বছরের পুরনো মসজিদ। দেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম চেহেলগাজী মাজার জামে মসজিদ। প্রাচীন হওয়ায় অনেকটাই ভেঙে পড়েছে মসজিদটি।

ঝুঁকি নিয়েই ভাঙ্গা অংশের মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। এজন্য প্রাচীন মসজিদের পাশেই তৈরি হয়েছে আরেকটি মসজিদ। ভাঙা মসজিদে ধারণ ক্ষমতার বেশি লোক হলে পাশের নতুন মসজিদে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিন গম্বুজ বিশিষ্ট চেহেলগাজী মাজার জামে মসজিদে সুদৃশ্য অলংকৃত মেহরাব আছে, তবে সেটি একেবারেই অরক্ষিত। সংস্কারের অভাবে মেহরাবটির অনেকাংশ ভেঙে গেছে। মূল মেহরাবের দু’পাশে দু’টি ছোট মেহরাব আছে, সেগুলোর অবস্থাও একই। মসজিদটির সামনে একটি সুসজ্জিত দরজা ভেদ করে বারান্দা, এরপর সামনের দিকে তিনটি দরজা, উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে দরজা আছে।

মসজিদের নির্মাণকাল নির্দেশক তিনটি শিলালিপি ছিল বলে জানা যায়। এর একটি দিনাজপুর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। এ শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৪৬০ খ্রি. মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সে অনুযায়ী এর বয়স প্রায় ৫৫৯ বছরের কাছাকাছি। এটি দিনাজপুরের প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত।

চেহেলগাজী মাজার ও মসজিদের খাদেম মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, তিনি বহুদিন ধরে প্রাচীন মসজিদটিতে ইমামতি করছেন। মসজিদটি ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাশের মসজিদেও একসঙ্গে নামাজ আদায় করা হয়। বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ জন নামাজ পড়ার মতো ধারণ ক্ষমতা আছে পুরনো মসজিদটির।

নামাজ পড়তে আসা চেহেলগাজী গ্রামের বাসিন্দা আলম হোসেন ও রুবেল ইসলাম জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই দেখছেন মসজিদটি। তখন যেভাবে দেখেছেন, এখনও সেভাবেই আছে। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরাও বলতে পারেননি, কে নির্মাণ করেছেন এ মসজিদ। ভেঙে গিয়ে দিন দিন আরও ছোট হয়ে আসছে চেহেলগাজী মাজার জামে মসজিদ। এটি দিনাজপুরের ঐতিহ্য। এটি রক্ষার দায়িত্ব সবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here